১.
. বন্দীত্বের কষ্ট
. রফিক উদ্দিন লস্কর
মহামারীর হাত থেকে যদি কোনমতে বাঁচা যায়
অশ্রুসিক্ত গোলাপের ভিড়ে খুঁজে নেব তোমায়।
যেখানে আকাশ ভারি শিশুদের আর্তচিৎকারে
ভালো থাকার প্রশ্নই ওঠে না ধ্বংসযজ্ঞের ধারে।
তারপরও সত্যি বলছি, বেঁচে থাকার এ আনন্দে
বড় শত্রুকেও ক্ষমা করে দেবো সঞ্জীবনী ছন্দে।
স্বজনের মৃত্যুর অভিযোগ যাহা বিনা চিকিৎসায়
কাউকে দাঁড় করাব না অভিযুক্তের কাঠগড়ায়।
বুঝে নেব, খুঁজে নেব, রহস্য ঘাঁটি অতি সন্তর্পণে
আদৌও কি তা উদ্ধৃত ছিল মানবিক ব্যাকরণে।
যদি বেঁচে যাই তবে খাঁচায় বন্দী প্রিয় পাখিটাকে
সহসা উড়িয়ে দেবো দূর নীলিমায় শান্তির ডাকে।
আর চাইনে মিছেমিছি কারও জীবন করতে নষ্ট
কারণ, মহামারী বুঝিয়ে দিয়েছে বন্দীত্বের কষ্ট।।
২.
. নীরবে নির্জনে
. রফিক উদ্দিন লস্কর
দূর হতে চেয়ে থাকে অপলক চক্ষে
কাছে গেলে মহাবিপদ নেই যে রক্ষে।
সম্পর্কের সাথে আজ দিয়েছে আঁড়ি
নির্জন নীরবে মোড়া কতশত বাড়ি।
আতঙ্কের ঘেরাটোপে জনতার প্রাণ
অসহায় বিশ্ব আজ কে করিবে ত্রাণ।
তবুও অবাধে চলে কতিপয় লোক
সমাবেশে খুঁজে পায় আপনার সুখ।
বিবেকের কাছে হেরে চলছে অবাধ
হলে পরে বুঝবে আছে কত স্বাদ।
ভালো থেকো বিশ্ব ভালো থেকো সব
সাবধানের চলাফেরায় প্রসন্ন রব।
৩.
. নৈরাশ্যের বারান্দায়
. রফিক উদ্দিন লস্কর
নির্জন পথের মাঝে একা একা স্থির,
মনের রাজ্যে যখন নৈরাশ্যের ভিড়।
হতাশার আকাশ ঘেরা মেঘ ঘনকালো
আগামীর সূর্যের নিভে গেছে আলো।
প্রাপ্তি অপ্রাপ্তির মাঝে সাপলুডু খেলা
আশার ডানায় চড়ে কেটে যায় বেলা।
যখনি পাওনি কিছু ততক্ষণই তো সব
প্রাপ্তি মানেই হারানো, মরা অনুভব।
পারিনা বুঝাতে এই উন্মাদ মনটাকে
না পাওয়া মানুষ সবাই, পেয়েছে কে?
অভাগা এই মন চায় সে আমার হোক,
প্রত্যাশী বুঝে না প্রাপ্তি মানেও শোক।
না পেলে সবটা ঠিক থাকল তোমার,
জনমব্যাপী লালিত যে সুপ্ত হাহাকার।
চাতকের মতো মন তবু আশায় থাকে
বিরহী মনের কোণে সে স্বপ্ন আঁকে।
_______________________________
রচনাকাল- ২১ মে, ২০২১ইং (শুক্রবার)
কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন