বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর, ২০২৬

নিঃসঙ্গ প্রহর

.                  নিঃসঙ্গ প্রহর  

.      ।।     রফিক উদ্দিন লস্কর    ।।  

তারিখ: ২৯/১০/২০২৬ ইং  

মাগো তুমি চলে গেলে, থামল সুখের গান,  

তোমার শোকে প্রতিক্ষণে, কাঁদে আমার প্রাণ। 

সন্ধ্যা হলে ঘরের কোণে, খুঁজি তোমার মুখ,  

তোমায় ছাড়া এই জীবনে, কোথায় পাব সুখ? 

তোমার হাতে ভাত খাওয়ার, স্মৃতি জাগে মনে,  

অশ্রু হয়ে ঝরে ব্যথা, আমার নীরব প্রতিক্ষণে। 

জ্বরের রাতে কপাল ছুঁয়ে, রাখতে শীতল হাত,  

আমি তোমায় ছাড়া অসহায়, দীর্ঘ দিন রাত। 

মাগো, আমার কান্নাগুলো, শোনো কি কবরে?  

তোমার ছেলে একলা কাঁদে, তোমার স্মৃতি ধরে। 

আমি কবরপাশে বসে কাঁদি, ভিজে মাটির বুক,  

তোমায় ছাড়া এই পৃথিবী, কেড়ে নিয়েছে সুখ। 

একটি বার স্বপ্নে এসে, জড়িয়ে ধরো বুকে,  

তোমায় ছাড়া মাগো আমি, ডুবে আছি দুঃখে। 

রচনাকাল: ২৯ অক্টোবর ২০২৬ ইং, ১২:০৭ মি. কাটলিছড়া-হাইলাকান্দি।  

রবিবার, ২৬ এপ্রিল, ২০২৬

হার-জিতের দুনিয়া

              হার-জিতের দুনিয়া
   ।।       রফিক উদ্দিন লস্কর       ।।  
জিত আর হার নিয়ে চলে জীবনের ভেলা,
উতালপাতাল ঢেউ করে সুখ দুখের খেলা। 
জিতলে মন ভরে ওঠে গায় আনন্দের গান,
হারলে সে চুপচাপ বসে কাঁদে, বিষণ্ণ প্রাণ।
জয় বলে সামনে চলো, তুমি স্বপ্ন ছুঁতে যাও,
হার বলে একটু থামো, ভুলগুলো শোধরাও।
দুটোই পাশে সবসময়, জীবনের পথ জুড়ে,
একটা আলো দেয়, আরেকটায় অন্তর পুড়ে।
হার মানে শেষ নয়, আবার শুরু করতে হয়,
জয়ের মাঝে সাহস থাকে, দূরে পালায় ভয়।
যে হেরে আবার দাঁড়াতে পারে, সে-ই মহান
যে জিতে অহংকারী, সে হারায় হিতাহিত জ্ঞান।
স্বপ্ন নিয়ে সামনে চলো, থেমে থেকো না আর,
জিত আর হার মিলেই হয়, এক সুন্দর সংসার।
ধৈর্যের সাথে পথ চললে, খুলবে সফলতার দ্বার,
সাহস ও বিশ্বাসের তরী করবে জীবন নদী পার।
রচনাকাল: ২৬ এপ্রিল ২০২৬ ইং, ১০:৫২ মি. নিতাইনগর- হাইলাকান্দি। 

বৃহস্পতিবার, ২৩ এপ্রিল, ২০২৬

কুসুমকলি

                    কুসুমকলি
।।    রফিক উদ্দিন লস্কর   ।। 
ফুলের সুবাস হাওয়ায় ভরা মন করে পাগল,
রঙিন ফুলে ভরা বাগান, সুখে ভরা আঁচল।
ভোরের বেলা শিশির গায়ে দোলে নরম ফুল,
মনটা ভাসে দূর আকাশে হারায় সকল ভুল।
জুঁই-বেলি ও গোলাপ হাসে, ছড়ায় মধুর ঘ্রাণ,
যখন মৌমাছিরা গান শোনায়, ভরে ওঠে প্রাণ।
রঙিন পাখায় প্রজাপতি নাচে আপন ছন্দে,
ফুলের হাসি ছড়িয়ে পড়ে মুগ্ধ তারই গন্ধে।
কুসুমকলি রঙে রঙিন হাসে সতেজ ধরা,
হোক জীবনের সকল পথ স্নিগ্ধতায় ভরা।
সকাল হলে নতুন আশা নতুন করে ডাকে,
ফুলের হাসি প্রাণ জুড়ায়, ক্লান্তি দূরে থাকে।
যদি প্রকৃতির এ মধুর ছোঁয়া হৃদয় জুড়ে রয়,
ফুলের মতো ঝরে গেলেও নেই কোনো ভয়।

রচনাকাল: ২৩ এপ্রিল ২০২৬ ইং,১৭:৪২ মি. কাটলিছড়া-হাইলাকান্দি।

মঙ্গলবার, ২১ এপ্রিল, ২০২৬

জীবন একটা নদী

                জীবন একটা নদী
        ।।   রফিক উদ্দিন লস্কর  ।। 
নদীর মতো জীবন বয়ে চলে দিনে রাতে,
সুখদুঃখ ও হাসিকান্না আছে তার সাথে।
কোমল ঢেউয়ের ছোঁয়ায় হাসি ফোটে মুখে,
কখনো কাঁদায় মন, নীরব কোনো দুখে।
ছোট ছোট স্রোত মিলে গায় কলকল গান,
তেমনি ভালো কাজ বাড়ায় জীবনে সম্মান।
পথের মাঝে কাঁটা কিংবা বাধা পাথরের,
অবিচল এগিয়ে যাওয়া সার্থকতা জীবনের।
কখনো শান্ত নদী, সে বুকে ধরে বাতাস,
ঝড় উঠে স্বচ্ছ জলে কূল ভেঙে সর্বনাশ।
নদীর বাঁকে ফোটে রয় কত অজানা ফুল,
তেমনি জীবনের মোড়েও রয় প্রচুর ভুল।
নদী পরিশেষে মেশে যায় বিশাল সাগরে,
সব দুঃখ ভাসিয়ে ফেরে ভালোবাসার ঘরে।
নদীর মতো জীবনটাও এক বহমান ধারা
চলতে থাকাই জয়, চলতে পেরেছে যারা।

রচনাকাল: ২১ এপ্রিল ২০২৬ ইং, ১০:০৯মি. কাটলিছড়া-হাইলাকান্দি। 

রবিবার, ১৯ এপ্রিল, ২০২৬

শব্দের ভেলা বর্ষ-০২, সংখ্যা-১৮ (pdf)

 

বিপর্যয়


.            রফিক উদ্দিন লস্কর
আজকাল পৃথিবীটা ওরাই ঢেকে দিয়েছে
অভিশপ্ত সভ্যতার কালো আবরণে,
প্রতিদিন ঘটে এখানে অসভ্য বর্বর ঘটনা
কেউই নেই মানবিকতার ব্যাকরণে।
প্রতিনিয়ত বিপর্যয় ঘটে মানবিক চেতনার
হায়নেরা ঢুকে পড়ে প্রাচীর ভেঙে,
আপোসের হিমালয়ে মৃত্যু হয় বিবেকের
কোপ মারে বারবার অসাড় অঙ্গে।
বাতাস ভারি নিপীড়িত মানুষের দীর্ঘশ্বাসে
উজান ভাটিতে বয় শোণিত ধারা,
গন্তব্যহীন যাত্রাপথ দ্যুতিময় আকাঙ্ক্ষার
দংশিত বিবেক রয় গোপনে খাঁড়া।
মেঘে ঢেকে গেছে সোনালি রোদের কিরণ
শুধু সরলতার একমুঠো দীর্ঘশ্বাস!
দু-মুখো কেউটেয় ঘিরে আছে এ পরিবেশ
বড্ড কঠিন ফনিমনসায় বসবাস।
২৭/০৩/২০১৯ইং
নিতাইনগর,হাইলাকান্দি (আসাম-ভারত)

পাগলিটাও মা হয়েছে

পাগলিটাও মা হয়েছে 
।। রফিক উদ্দিন লস্কর ।। 
পাগলিটা আজ মা হয়েছে
হয়নি তার বিয়ে,
একটি শিশু ধরায় এখন
লাজ-অপমান নিয়ে।

ভোর হতেই চারিদিকে
রটছে নীরব খবর,
কার পাপের ফসল এটা
কোথায় তার ঘর?

কেউ জানে না বাবা কে,
কার লালসার বলি,
কোথায় যাবে পাগলিটা
কোন হাট, কোন গলি?

কোন সমাজে বাস করি
বিবেক গেছে মরে,
কোন পুরুষের কামানন্দ
পাগলির কোল ভরে?

নয় নিরাপদ পাগল আজ
পাগলি প্রমাণ তার,
সভ্য সমাজ মুখ লুকায়
দোষটা ছিল কার?

পাগলি এখন মা হয়েছে 
কে নেবে তার ঋণ?
কার দোষেতে এই শিশুটি
পিতৃ পরিচয় হীন?

জন্ম নিলো যে শিশুটি
ডাকবে কাকে বাপ?
সমাজ বলবে জারজ সে
পাগলির না'কি পাপ!


পাগলির ছিল দোষ এটাই
আছে নারীদেহ তার, 
পাগল দেখে সেই সুযোগে  
সুখ নিলো জানোয়ার।

পুরুষ হয়েও নিজের প্রতি
জন্মায় ঘৃণা - লাজ,
কোন পুরুষে করতে পারে
এমন জঘণ্য কাজ!

রচনাকাল: ১২ জানুয়ারি ২০২৬ ইং, ০১:৩৭ মি. কাটলিছড়া-হাইলাকান্দি।

নিঃসঙ্গ প্রহর

.                    নিঃসঙ্গ প্রহর     .      ।।      রফিক উদ্দিন লস্কর     ।।    তারিখ : ২৯ / ১০ / ২০২৬ ইং     মাগো তুমি চলে গেলে, থামল...